সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ছেড়েছেন। তাঁর প্রত্যাহারের আদেশ কার্যকর হওয়ার পর আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর জায়গায় ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা। গতকাল সোমবার বিকেলে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
Visit somethingsdifferent.biz for more information.
সিলেট ছাড়ার আগে আজ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন সারওয়ার আলম। সেখানে তিনি লেখেন, ‘বিদায় সিলেট। ভালো থাকুন সিলেটবাসী। আপনাদের ভালোবাসায় আমি ধন্য।’
এর আগে গত রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জেতী প্রুর সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে প্রজ্ঞাপনে সারওয়ারকে প্রত্যাহারের কারণ বা সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের খবরে সিলেটে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাঁকে স্বপদে বহাল রাখার দাবিতে গত দুই দিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ‘সিলেটের সর্বস্তরের জনগণ’–সহ বিভিন্ন ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রত্যাহারের আদেশ বাতিলের দাবি জানানো হয়।
সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে হঠাৎ প্রত্যাহারপ্রশাসনিক ও রাজনৈতিক একাধিক সূত্র বলছে, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনায় ছিলেন সারওয়ার আলম। বিশেষ করে সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারসংক্রান্ত তাঁর কয়েকটি উদ্যোগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একটি অংশও বিভিন্ন কারণে তাঁর বিরোধিতা করছিল।
সূত্রগুলো জানায়, ১২ জুন শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগের ঘোষণা দেন সারওয়ার আলম। এর অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। সেই সঙ্গে মাজারে দান সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়। পরে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে গতকাল মাজারে স্থাপন করা দানবাক্স ও ডেক থেকে প্রাপ্ত অর্থ গণনা করা হয়। গণনার পর সেগুলো থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

