পদোন্নতিবঞ্চিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আবেদন যাচাইয়ে কমিটি গঠন

· Prothom Alo

২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়কালে রাজনৈতিক কারণে পদোন্নতি-পদায়নবঞ্চিতসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার অবসরপ্রাপ্ত-অকালীন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-৪ শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাতজন অবসরপ্রাপ্ত ও অকালীন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আবেদন যাচাই-বাছাইসহ এ বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে পাঁচ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Visit mwafrika.life for more information.

কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। সদস্য হিসেবে থাকবেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধি, অর্থ বিভাগের একজন প্রতিনিধি এবং আইন ও বিচার বিভাগের একজন প্রতিনিধি। প্রতিনিধিদের পদমর্যাদা যুগ্ম সচিবের নিচে হবে না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, কমিটি আবেদনকারীদের দাখিল করা তথ্য-নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে রাজনৈতিক কারণে পদোন্নতি ও পদায়নবঞ্চনার অভিযোগের সত্যতা পর্যালোচনা করবে।

তবে যেসব বিষয়ে আদালতের সুস্পষ্ট আদেশ রয়েছে, সেসব বিষয় কমিটির কার্যপরিধির বাইরে থাকবে। কমিটিকে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-৪ শাখা কমিটির সচিবালয় হিসেবে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে। এ ছাড়া কমিটির সদস্যরা সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের সদস্যদের মতো প্রতি সভার জন্য সমপরিমাণ সম্মানী পাবেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আকনুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বৈষম্য ও প্রশাসনিক বঞ্চনার অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের আবেদন পর্যালোচনায় এ উদ্যোগ প্রশাসনে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leggi l'articolo completo alla fonte

Will schools close as temperatures hit 38C in the June heatwave?

· The Independent

Leggi l'articolo completo alla fonte

গেস্টরুম সংস্কৃতি–র‍্যাগিং আর ‘গুপ্ত’ কেমন হলো সেই সিনেমা

· Prothom Alo

বিশ্বজুড়েই স্বাধীন ধারার সিনেমা যেন নতুন এক জাগরণ তৈরি করেছে। অস্কারজয়ী ‘আনোরা’ আর ‘ফ্লো’ যেমন দেখিয়েছে ছোট বাজেটের গল্পের শক্তি, তেমনি চলতি বছর ‘ব্ল্যাকরুমস’ ও ‘অবসেশনস’ প্রমাণ করেছে ইন্ডি চলচ্চিত্রও বক্স অফিসে বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে। অনেক বিশ্লেষকই বলছেন, পরিচিত ফ্র্যাঞ্চাইজির চেয়ে নতুন ও মৌলিক গল্পের প্রতিই এখন বেশি আগ্রহী দর্শক।

এই বৈশ্বিক ধারার প্রতিফলন বাংলাদেশেও দেখা যাচ্ছে। গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘দেলুপি’ আর গত সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’-এর মতো অল্প বাজেটের সিনেমাগুলো যেন স্বাধীন ধারার তরুণ নির্মাতাদের ভিন্ন ধারার গল্প বলাকে সামনে নিয়ে আসছে।

Visit h-doctor.club for more information.

একনজরেসিনেমা: ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ধরন: স্যাটায়ার, ড্রামাচিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা, চিত্রনাট্য, প্রযোজনা, পরিচালনা: আকাশ হকঅভিনয়: দেবদ্যুতি আইচ, রকি খান, ববি বিশ্বাস, আখতারুজ্জামান আজাদদৈর্ঘ্য: ২ ঘণ্টা ২২ মিনিট

আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ মুক্তি পেয়েছে ১২ জুন। রনো আনোয়ারের ছোটগল্প ‘ঝরাপাতার দুঃখবিলাস’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত সিনেমাটিতে উঠে এসেছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হলসংস্কৃতি, ছাত্ররাজনীতি ও ক্ষমতার জটিল সম্পর্ক। মুক্তির আগেই সিনেমাটি ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশ প্যানোরামা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফিল্ম সোসাইটির ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র’ উৎসবে হীরালাল সেন পদক অর্জন করে।

‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’–এর দৃশ্য। ছবি : নির্মাতার সৌজন্যে

গল্পের শুরুতেই দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য ভর্তি হওয়া জুনিয়রদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন কয়েকজন সিনিয়র ভাই। তারপর তাঁদের ক্যানটিনে খাওয়াতে নিয়ে যান। সেখানে বড় ভাইদের কথামতো জুনিয়ররা খেতে শুরু করে। তবে খাওয়াটা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশিই হয়ে যায়। তারপর শুরু হয় গণরুমে তাদের ওপর বড় ভাইদের র‍্যাগ। এরপর একে একে বের হতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতির নানা দিক।

সিনেমার প্রেক্ষাপট চাঁনখারপুল নামের একটি কাল্পনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যাসাগর আবাসিক হল। কিন্তু এখানকার কর্মকাণ্ড এতটাই পরিচিত যে বাংলাদেশের যেকোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সহজেই নিজেকে কোনো না কোনো জায়গায় মেলাতে পারবেন। গেস্টরুম সংস্কৃতি, র‍্যাগিং, পদ-পদবির লড়াই, সিনিয়রদের প্রতি অন্ধ আনুগত্য এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের বিনিময়ে সুবিধা লাভের সংস্কৃতি—সবকিছুই এখানে ব্যঙ্গ আর নির্মম বাস্তবতার মিশেলে তুলে ধরা হয়েছে। আছে হালের বহুল চর্চিত ‘গুপ্ত’ চরিত্রও।

মেশিনগান ছেড়ে গিটার হাতে শাকিব, কেমন হলো ‘রকস্টার’

চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো হাস্যরসের মাধ্যমে ক্ষমতাকে উপহাস। ‘ভদ্রঘরের ছেলে রাজনীতি না করলে দেশের কী হবে’, ‘এমন কি কোনো খেলা আছে, যেটা একা খেলা যায়’ থেকে ‘এত উন্নয়ন তবু খালি নির্বাচন নির্বাচন’–এর মতো তীক্ষ্ণ সংলাপগুলো সিনেমা শেষ হওয়ার পরও মনে থাকে। ব্যঙ্গ আর হাস্যরসের আড়ালে নির্মাতা মনে করিয়ে দিয়েছেন, আজকের শোষিত ব্যক্তিটিই কাল হয়ে ওঠে শাসক।
একজন শিক্ষার্থী কীভাবে একটি ক্ষমতাকাঠামোর অংশ হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত সেই কাঠামোতেই বন্দী হয়ে পড়ে, সেটাই সিনেমার মূল উপজীব্য। বারবার উচ্চারিত ‘ভাই’ সম্বোধন যে এই ক্ষমতার সম্পর্কের প্রতীক, সেটাও দেখানো হয়েছে।

‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’–এর পোস্টার। নির্মাতার সৌজন্যে

একক চরিত্রকেন্দ্রিক কোনো সিনেমা এটি নয়। এখানে আছেন হল সভাপতি, সেন্ট্রাল সভাপতি, হল কমিটির পদপ্রার্থী আর সাধারণ ছাত্র। সিনেমাটিতে কোনো চরিত্রের নাম দেননি নির্মাতা। ছাত্ররাজনীতির যে ধারা গত কয়েক দশকে দেখা গেছে, সেখানে নাম বদলেছে কিন্তু সাধারণ ছাত্ররা দাবার ঘুঁটির মতো ব্যবহৃত হয়েছে বারবার। নামে কী এসে যায়।

অভিনয়শিল্পীদের বেশির ভাগই অপেশাদার, কিন্তু পর্দায় সেটা খুব একটা বোঝা যায়নি। বিশেষ করে হর্সম্যানের চরিত্রে দেবদ্যুতি আইচ, আর বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতির চরিত্রে রকি খান ভালো করেছেন। স্বল্প উপস্থিতিতে নজর কেড়েছেন আখতারুজ্জামান আজাদ। চয়ন মন্ডল, আবু সায়ীদ, এস এ জীবন, ইফাদ হাসানসহ পার্শ্ব চরিত্রে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের দেখেও মনে হয়েছে, যেন ক্যাম্পাস থেকে তুলে আনা কোনো বাস্তব চরিত্র।

মহীন কি বনলতা সেনকে খুঁজে পেলেন

হর্সম্যানের চরিত্রটি ধীরে ধীরে সিনেমায় যেভাবে প্রধান ভূমিকা নেয়, সেটাও চমকপ্রদ। সাধারণ ছাত্র বাইক কেনার স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু এক রাতে হঠাৎই পেয়ে যায় ঘোড়া, এর পর থেকে সার্বক্ষণিক ঘোড়াই তার সঙ্গী। ব্যঙ্গ আর ড্রামা থেকে সিনেমাটি তখন ফ্যান্টাসির দিকে চলে যায়।

গল্পের সঙ্গে মানানসই আবহসংগীত ও গান সিনেমার ইতিবাচক দিক। ‘রাজনীতির ময়দান ও সহমত ভাই’ ও ‘সহমত ভাই ২’-এর মতো র‍্যাপ গানগুলোর উপস্থাপন ও চিত্রায়ণে রয়েছে নতুনত্ব। যা অনেক বড় বাজেটের সিনেমার গানের কোরিওগ্রাফিকেও চ্যালেঞ্জ করে। গানের কথাগুলোও ছিল সিনেমার মেজাজের সঙ্গে মানানসই। যদিও কিছু দৃশ্যে আরও ভালোভাবে আবহসংগীতের ব্যবহার করা যেত।

‘ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ সিনেমার দৃশ্য। ছবি: নির্মাতার সৌজন্যে

শুরুর দিকে গল্পে গতি থাকলেও মাঝামাঝি এসে কিছুটা একঘেয়ে হয়ে যায়। মনে হচ্ছিল, কয়েকটি দৃশ্যের মধ্যেই সিনেমাটি যেন ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশেষ করে যখন ফ্যান্টাসি উপাদান ঢুকে পড়ে। সম্পাদনা আরও ধারালো হওয়া প্রয়োজন ছিল; কয়েকটি দৃশ্য শেষ হওয়ার আগেই পরের দৃশ্যে ঢুকে পড়ে।

এই সিনেমা রচনা, প্রযোজনা, চিত্রগ্রহণ, সম্পাদনা ও পরিচালনা একা হাতে সামলাচ্ছেন আকাশ হক। কিছু দুর্বলতা সত্ত্বেও ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’ তাঁর সাহসী প্রচেষ্টা। গল্প নির্মাতার ‘জীবন থেকে নেওয়া’, আমার, আপনারও নয় কি?

Leggi l'articolo completo alla fonte